RSS

গ্রাজুয়েশন শেষ করে প্রাইভেট জব সেক্টরের জন্য নিজেকে যেভাবে প্রস্তুত করা জরুরী

28 Nov

আসলে গ্রাজুয়েশন শেষ করে না, ভার্সিটিতে ভর্তির সময় থেকেই জব সেক্টরের জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়। কিন্তু আমরা যেহেতু শুরুর দিকে অনেক কিছুই বুঝে উঠতে পারিনা, তাই আমাদের প্রস্তুতিটা শুরু হয় ফাইনাল ইয়ারের দিকে, কিংবা কারো কারো ক্ষেত্রে শেষ করার পর থেকে। গ্রাজুয়েশন শেষ করেই চাকুরীর জন্য অনেকেই পাগলপ্রায় হয়ে যায়। কোথায়, কিভাবে, কখন, কি করলে কি হবে, কার কাছে যেতে হবে, কোথায় সিভি জমা করতে হবে ইত্যাদি নানান ধরনের চিন্তা ভর করে মাথার উপর। 

আমি প্রোফেশনালি একজন সফটওয়্যার(এন্ড্রয়েড) ডেভেলপার। কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় নিয়ে পরিনি, তবে টেলিকমিউনিকেশন ও ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি। এরপর এখন জব করছি একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে। আমার ইচ্ছেও ছিলো এমনটাই।

গ্রাজুয়েশন শেষে শুরুতেই জব পাওয়া যাবে এমনটা ভুল, আবার ঠিকও। এটা নীর্ভর করে কিছু কিছু বিষয়ের উপর। প্রাইভেট জব সেক্টর বিশেষ করে আইটি সেক্টরগুলোতে জব পাওয়ার জন্য দরকার এই কয়েকটি বিষয়। ১। দক্ষতা ২। কৌতুহল/প্যাশন ৩। কনফিডেন্স ৪। গুড কমিউনিকেশন বা নেটওয়ার্ক ৫। এটিচ্যুড ইত্যাদি। তবে কনফিডেন্স ব্যাপারটা নীর্ভর করে দক্ষতার উপর। যে যত বেশি কোন বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করতে পারে সে তত বেশি সেই বিষয়ের উপর কনফিডেন্ট হয়ে যায়। তাই সবার আগে স্থান হল দক্ষতা।

কিভাবে দক্ষতা বাড়ানো যায়? এর জন্য সবার আগে নিজেকে জানতে হবে। নিজেকে কি করতে ভাল লাগে সেটা জানতে হবে। কিভাবে নিজেকে জানা যাবে? ভার্সিটিতে ১ম থেকে শেষ সেমিস্টার পর্জন্ত যা কিছু পড়া বা শিখা হয়েছে সেগুলোর উপর ভিত্তি করে নিজেকে জানা যাবে। সেগুলো রিয়েল লাইফে এপ্লাই করার চেষ্টা করতে হবে। এটা করতে যেয়ে অবশ্যই কোন না কোন একটি বিষয় বেশি ভাল লেগে যাবে। সবগুলো ভাললাগবেনা। যদি কেউ বলে একটি বিষয়ও ভাললাগেনি, তাহলে সে মিথ্যা বলেছে।  

আমার গল্প থেকে বলি, আমি যেভাবে আমার টার্গেট ঠিক করেছি। আমরা দ্বিতীয় সেমিস্টারেই প্রোগ্রামিং এর কোর্স পেয়েছিলাম। সি প্রোগ্রামিং দিয়ে শুরু করেছিলাম। এটা করতে আমার বেশ ভাল লেগেছে। আমি কিন্তু তখনই ঠিক করতে পারিনি যে আমি প্রোগ্রামিংকেই ক্যারিয়ার হিসেবে নিবো। এরপর আস্তে আস্তে নেটওয়ার্কিং, ইলেক্ট্রনিক্স রিলেটেড কোর্সগুলো পরতে হয়েছে। তারপর থার্ড ইয়ারের দিকে ইলেক্ট্রনিক্স রিলেটেড একটা প্রোজেক্ট করতে গিয়ে সামহাউ আমি বুঝতে পারি ইলেক্ট্রনিক্স নিয়ে আমি কাজ করতে পারছিনা। এরপর ফাইনাল ইয়ারে সফটওয়্যার রিলেটেড কাজ শুরু করে দিলাম। টিম নিয়ে একটা প্রোজেক্টও করে ফেলল্লাম। এখানে ভাললাগাটা আরো ভালভাবে বুঝতে পারলাম। বুঝতে পারলাম এখানে আমার প্যাশন লুকিয়ে আছে। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম এই সেক্টরেই আমার ক্যারিয়ার তৈরি করার চেষ্টা করবো।

এভাবে নিজেকে জেনে সেইদিকে দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। এভাবে কনফিডেন্সটাও তৈরি হয়ে যাবে। আর প্রচুর কৌতুহলী হতে হবে। প্রোগ্রামিং ভাল লাগলে এই পথে বেশি ভাল করার ভাল উপায় হল প্রোগ্রামিং কন্টেস্টের সাথে লেগে থাকা। আমার জানামতে এটাই একটা প্রতিযোগিতা যেখানে কোন ধরনের গুটিবাজি ছাড়াই নিজেকে সুন্দরভাবে যাচাই করা যায়। 😀 আর লজিকগুলোও অনেক বেশি তৈরি হয়। যে কোন ধরনের প্রবলেম সল্ভ করার সাহস তৈরি হয়।

এরপর আসি গুড কমিউনেকশন বা নেটওয়ার্ক। শুধুমাত্র পড়ালেখা, কাজ নিয়ে পরে থাকলেই হয়না। অন্যান্য শখের কাজগুলোও করতে পারতে হয়। যেমন হতে পারে ডিবেটিং, খেলাধুলা, গল্পের বই পড়া, কালচারাল প্রোগ্রামে অংশ নেয়া, উপস্থাপনা ইত্যাদি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সাথে যুক্ত থাকার সুযোগ থাকলে সেই সুযোগটা নিতে হয়। এতে অনেকজনের সাথে পরিচিতি হয়। বড় ভাই-আপুদের সাথে অনেক বেশি বেশি যোগাযোগ রাখতে হয়। কারন দুদিন পর তারাই হয়তো কোন না কোন ইন্টারভিউ বোর্ডে তোমার ইন্টারভিউ নিবে। একদম সত্যি কথা। 😉 

এছাড়াও মাঝে মাঝে বিভিন্ন ইভেন্ট, সেমিনার ও প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামগুলোতে যেতে হয়। এগুলোতে গেলে বড় বড় প্রোফাইলের লোকজনদের সাথে দেখা হয়, তাদের সাথে কথা বলার সুযোগ হয়। এতে অনেক কিছু জানা যায়। আর তুমি কি করছ না করছ বা ফিউচার প্লান কি এসব সম্পর্কে তারাও জেনে যায়। তখন সেভাবে প্রফেশনাল লাইফে তারাই হয়তো তোমাকে ডেকে নিতে পারে। আমার ক্ষেত্রে যেমন, বিভিন্ন টেক প্রোগ্রামে উপস্থাপনা করতে যেয়ে বেশকিছু সেরকম বড় ভাই-আপুদের সাথে দেখা হয়েছিলো, কথা হয়েছিলো। পরে তাদের মধ্য থেকেই কয়েকজন আমাকে ডেকেছিলো। 😉 এভাবেই আমার জব লাইফটা শুরু হয়। 🙂 

এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম গুলোতে এক্টিভ থাকা খারাপ কিছুনা। যেমন ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডইন এর মত বড় বড় মাধ্যমগুলোতে নিজের পোর্টফলিও যুক্ত করে প্রোফাইলটা সুন্দর করে রাখাটা খুব জরুরী। বিভিন্ন জব রিক্রুমেন্ট অফিসাররা মাঝে মাঝে এধরনের প্রোফাইল চেক করেই অনেক সময় ফোন করে ইন্টারভিউএর জন্য ডেকে নেয়। এছাড়াও বিডিজবস.কম এর মত সাইটগুলোতে আপডেটেড সিভি জমা করে রাখাটা অবশ্যই দরকার। সিভিটাও হওয়া দরকার সুন্দর রকমের। কিন্তু আইটি প্রাইভেট সেক্টরগুলোতে সাধারনত অপরিচিতদের কম ডাকা হয়। কারন তারা চায় যে কাজ জানে এরকম কাউকে। কোম্পানির বস’রা তাই কোম্পানির অন্যান্য এমপ্লয়িদেরকেই এই সার্চিং এর কাজটা দিয়ে দেয় পরিচিতদের মধ্যে খুজে নিতে। আর তাই নেটওয়ার্কটা অনেক বেশি জরুরী।

সব জব সীকাররা জব পেয়ে যাক, এই আশা নিয়ে আজ শেষ করছি। জব সেক্টরে প্রবেশ করার পর থেমে গেলে চলেনা। সেখানেও ভাল করতে হয়, নিজেকে আরো ডেভেলপ করতে হয়। কিভাবে জব শুরু পরবর্তী লেভেলটা ডেভেলপ করতে হয় এরকম কিছু টপিক নিয়ে আগামীদিন লিখতে বসব ইনশাআল্লাহ।। সবার জন্য শুভকামনা। 🙂

Advertisements
 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s